সোনার বাংলা গড়তে হলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে, তাঁর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।

সোনার বাংলা গড়তে হলে বঙ্গবন্ধুকে জানতে হবে, তাঁর চেতনায় উদ্বুদ্ধ হতে হবে।
Website created by Prof. Dr. Ananda Kumar Saha, Dept. of Zoology, Rajshahi University. অধ্যাপক ডঃ আনন্দ কুমার সাহা, প্রাণিবিদ্যা বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

৬১ বছর পর প্রত্যাহার হলো জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বহিষ্কারাদেশ


অবশেষে দীর্ঘ ৬১ বছর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতপক্ষ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করলো। গতকাল শনিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের জরুরি সিন্ডিকেট সভায় সর্বসম্মতিক্রমে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। ১৯৪৯ সালের এক শনিবারে বঙ্গবন্ধুকে বহিষ্কার করা হয়েছিল আর ২০১০ সালের আরেক শনিবার তা প্রত্যাহার করা হলো।

গতকাল সিন্ডিকেট সভা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক ইত্তেফাককে বলেন, জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানের অগণতান্ত্রিক বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করা হলো। বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ সঠিক ছিল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বহিষ্কারাদেশ ও জরিমানার আদেশটি ছিল সুবিচারের পরিপন্থি। তাই বিশ্ববিদ্যালয় সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহার করেছে।

অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক আরো বলেন, বঙ্গবন্ধুর প্রতি তকালীন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অন্যায় ছিল। শেখ মুজিবুর রহমানকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে সেদিন বিশ্ববিদ্যালয় কতর্ৃপক্ষ একতরফাভাবে তাকে বহিষ্কার করেছিল। সিন্ডিকেট মনে করছে এই বহিষ্কারাদেশের আদেশ অনেক আগে উত্থাপিত হওয়া উচিত ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রোভিসি অধ্যাপক ড. হারুন অর রশিদ বলেন, ন্যায়সঙ্গত ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সমর্থন দেয়ার পরও অযৌক্তিভাবে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে গণতন্ত্র এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আরও এক ধাপ এগোলো।

১৯৪৯ সালে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ডাকা ধর্মঘটে নেতৃত্বদানের অভিযোগে ওই বছরের ২৬ মার্চ শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র শেখ মুজিবুর রহমানসহ পাঁচ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার এবং ১৫ টাকা জরিমানা করে। সাময়িক বহিষ্কারাদেশ পাওয়া বাকি চারজন ছিলেন-এমএ প্রথম পর্বের কল্যাণচন্দ্র দাসগুপ্ত, এলএলবি দ্বিতীয় বর্ষের নাঈমউদ্দিন আহমেদ, এমএ প্রথম পর্বের ছাত্রী নাদেরা বেগম ও বিএ প্রথম বর্ষের মুহাম্মদ আবদুল ওয়াদুদ। কাউন্সিলের সভায় ১৭ এপ্রিলের মধ্যে ভবিষ্যতে ভাল আচরণ করবে এই মর্মে সংশিস্নষ্ট হল প্রভোস্টের কাছ থেকে ফরম নিয়ে তাদের অভিভাবকরা নিশ্চয়তাপত্র দিলে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দেয়া হবে বলে জানানো হয়। কিন্তু চারজন এই শর্ত মেনে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে পেলেও শেখ মুজিবুর রহমান শর্ত মেনে ছাত্রত্ব ফিরিয়ে নেননি। ফলে ১৮ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের তকালীন ভিসি ড. সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেন।

দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও কেউ বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেননি। বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়ে তিনি বঙ্গবন্ধু, স্বাধীনতার স্থপতি, জাতির জনকসহ বহু উপাধিতে ভূষিত হয়েছেন। এমনকি তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্যও হয়েছিলেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ উন্নয়ন সাংবাদিক ফোরামের (বিইউএসএফ) আহ্বায়ক আলী নেয়ামত বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর রাষ্ট্রপতি মোঃ জিলস্নুর রহমানের অফিসে ফ্যাক্সযোগে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের দাবি জানানোর পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কতর্ৃপক্ষ বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শুরু করে। লিখিত দাবির একটি কপি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসিকেও দেয়া হয়। এরপর আরেফিন সিদ্দিক বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ সংক্রান্ত কাগজপত্র সংগ্রহের জন্য ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার সৈয়দ রেজাউর রহমানকে নির্দেশ দেন। গত ৭ আগস্ট বঙ্গবন্ধুসহ অন্য চারজনের বহিষ্কারাদেশ সংক্রান্ত কাগজপত্র খুঁজে পান। ভিসি গতকাল দুপুর ১২টায় জরুরি সিন্ডিকেট সভা আহবান করেন। সভায় সিন্ডিকেটের ১৭ জন সদস্যের মধ্যে উপস্থিত ১৪ সিন্ডিকেট সদস্য জোরালোভাবে বঙ্গবন্ধুর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহারের পক্ষে মত দেন।

সিন্ডিকেট সভায় বলা হয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারীদের ১৯৪৯ সালে আন্দোলনে অংশ গ্রহণের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তকালীন আইন বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র (রোল-১৬৬, এস.এম. হল) শেখ মুজিবুর রহমানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল ২৬ মার্চ, ১৯৪৯ সালে যে জরিমানা অভিভাবক প্রত্যায়িত মুচলেকা প্রদানের অনাদায়ে ছাত্রত্ব বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছিল, সিন্ডিকেট সেই সিদ্ধান্তকে অগণতান্ত্রিক ও ন্যায় বিচারের পরিপন্থি হিসাবে গণ্য করে। ১৯৪৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে ভর্তিকৃত ছাত্র শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আন্দোলনে সমর্থন ও নেতৃত্বদান ছিল তার অসাধারণ দূরদর্শী ও জ্ঞানদীপ্ত গণতান্ত্রিক চেতনার বহিঃপ্রকাশ। এটি ছিল ঐ সময়ের সাহসী ন্যায়ভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে একটি সাহসী পদক্ষেপ। কর্মচারীদের ন্যায়সংগত আন্দোলনে তার অংশগ্রহণ ছিল যথার্থ। তাকে বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক, অনৈতিক, ন্যায় বিচারের পরিপন্থি ছিল বলে সভা মনে করে। এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জরিমানা ও মুচলেকা প্রদান না করে সেদিন শেখ মুজিবুর রহমান যে সাহসী প্রতিবাদী ভূমিকা রেখেছিলেন তা এ সভা গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছে। ১৯৪৯ সালের আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর সাথে অন্য যারা আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেছিলেন এ সভা তাঁদের প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছে। পরে দুপুর দেড়টায় সভা শেষে সাংবাদিকদের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বহিষ্কারাদেশের মাধ্যমে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছাত্রত্ব ফিরিয়ে দিলো। বহিষ্কার আদেশ যে অযৌক্তিক ও অগণতান্ত্রিক ছিল তা প্রমাণিত হলো।

বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত সাদা দলের আহবায়ক ও সিন্ডিকেট সদস্য অধ্যাপক ড. সদরুল আমিন ইত্তেফাককে বলেন, ১৯৪৯ সালে বঙ্গবন্ধুসহ ৫ জনের প্রতি অন্যায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল। অনেক আগেই তা প্রত্যাহার করা উচিত ছিল।

বঙ্গবন্ধুর ছাত্রত্ব বাতিল আদেশ প্রত্যাহারে এত বিলম্ব হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ওই ঘটনার পরে পর্যায়ক্রমে যারা দায়িত্বে ছিলো, তারা বিষয়টি বিবেচনায় আনেননি। তাই দেরি হলো। ভুল একশ' বছর পরেও সংশোধন করা যায়। আমরা এখন ভুল সংশোধন করে নিয়েছি।
ছাত্রলীগ সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন, বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি শেখ সোহেল রানা টিপু এবং সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ সাকিব বাদশা এই সিদ্ধান্তের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে অভিনন্দন জানান।

Notice: This website is not involved in any financial benefit of its owner

.

Please let us know if author or owner of any material available here wants to remove his/her material from this website. Contact: ourmujib@gmail.com .